আসামে অপ্রাপ্তবয়স্ক ছাত্রীকে গণধর্ষণ ও এক অভিযুক্তের মৃত্যু নিয়ে তোলপাড়
ছবির উৎস, Getty Images
- Author, দিলীপ কুমার শর্মা
- Role, বিবিসি হিন্দির জন্য, গুয়াহাটি থেকে
- পড়ার সময়: ৮ মিনিট
আসামের নগাঁও জেলার ধিং খবরের শিরোনামে এসেছিল ২০১৮ সালে। সে বছর আইএএএফ বিশ্ব অনূর্ধ্ব-২০ অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপের ৪০০ মিটার দৌড় প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক জিতেছিলেন এই ছোট্ট এলাকা থেকে উঠে আসা ভারতীয় স্প্রিন্টার হিমা দাস। তিনিই প্রথম ভারতীয় নারী যিনি ওই রেকর্ড গড়েন।
সম্প্রতি আরও একবার খবরের শিরোনামে উঠে এসেছে ধিং, কিন্তু সেটা একেবারে ভিন্ন কারণে।
টিউশন পড়ে বাড়ি ফেরার পথে ওই শহরে এক অপ্রাপ্তবয়স্ক স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে গোটা রাজ্যে। গত কয়েকদিন ধরে প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন নারীরা।
শহরের দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং শত শত নারী হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে রাস্তায় বসে সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছেন নিরাপত্তার।
তাদের হাতে যে প্ল্যাকার্ড রয়েছে তাতে লেখা ‘আমরা ন্যায় বিচার চাই’, ‘নারীদের নিরাপত্তা দিন’, ‘ধর্ষণ বন্ধ হোক, ধর্ষককে চরম শাস্তি দেওয়া হোক’ ইত্যাদি।
ঠিক একইভাবে কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এক তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ৯ই অগাস্ট থেকে উত্তাল হয়ে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গও। প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছে সাধারণ মানুষ, প্রতিবাদের ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে।
অন্যদিকে, মহারাষ্ট্রের বদলাপুরে দুই খুদে পড়ুয়াকে যৌন হেনস্থার অভিযোগকে ঘিরে প্রতিবাদে পথে নেমেছিলেন বিপুল সংখ্যক মানুষ। পুলিশ ও স্কুল কর্তৃপক্ষের গাফিলতির অভিযোগ তুলে মহারাষ্ট্রের রাস্তায় নামেন সাধারণ মানুষ। তারপর আসামে এক নারী নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর উত্তাল হয়ে উঠেছে নাগরিক সমাজ।
আসামের ওই ছাত্র্রীকে গণধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুধুমাত্র যে নারীরাই প্রতিবাদে পথে নেমেছেন এমনটা নয়। ছাত্র সংগঠনসহ বেশ কয়েকটা সংগঠনের সদস্যরাও দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে ধর্নায় বসেছেন।
নির্যাতনের শিকার পড়ুয়ার গণধর্ষণের ঘটনায় বিচারের দাবিতে আসামের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ করছেন সাধারণ মানুষ।
ধিং থানায় দায়ের করা এফআইআর অনুযায়ী, ২২শে অগাস্ট, অর্থাৎ গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ ওই গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে।
সে দিন সন্ধ্যায় টিউশন পড়ে সাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন ওই ছাত্রী। অভিযোগ, ফেরার পথে নির্জন রাস্তার ধারে তার উপর হামলা চালায় তিন যুবক এবং তাকে গণধর্ষণ করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর তিন অভিযুক্ত মেয়েটিকে অর্ধচেতন অবস্থায় ফেলে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
নগাঁও মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন নির্যাতনের শিকার ওই ছাত্রী।
End of বিবিসি বাংলায় অন্যান্য খবর
ছবির উৎস, MD SALIM
পুলিশ হেফাজতে ধৃতের মৃত্যুর অভিযোগ
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
এদিকে, এই গণধর্ষণের ঘটনায় ধৃত এক অভিযুক্তের শনিবার সকালে পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ।
পুলিশ দাবি করেছে শনিবার সকালে অভিযুক্তকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেই সময় তিনি পালানোর চেষ্টা করেন এবং পাশের একটি পুকুরে পড়ে গেলে তার মৃত্যু হয় বলে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে।
মৃত যুবকের তাফাজ্জুল ইসলাম। পুলিশ সূত্রে খবর, ২৪ বছরের ওই যুবক নাবালিকাকে গণধর্ষণের ঘটনায় তিনজন অভিযুক্তর মধ্যে অন্যতম।
পুকুর থেকে অভিযুক্তের মৃতদেহ উদ্ধারের সময় তার দুই হাতে হাতকড়া ছিল বলে অভিযোগ।
এই ঘটনার প্রতিবাদে সোচ্চার নারী সুরক্ষা সমিতির সভাপতি তুলিকা বোরা বলেন, “আমাদের এলাকার নারীরা মোটেই সুরক্ষিত নন। সরকার ও প্রশাসন তাদের নিরাপত্তা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ।”
তিনি বলেন, “বৃহস্পতিবার ওই ছাত্রীর সঙ্গে এই ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর থেকেই এখানকার নারীরা আতঙ্কে রয়েছেন। নির্যাতনের শিকার মেয়েটিকে ন্যায় বিচার দিতেই হবে। আমরা এই ঘটনার ন্যায়সঙ্গত বিচার চাই। বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আমরা চুপ করে বসে থাকব না।”
ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রীর এক আত্মীয় বলেছেন, “মেয়েটা ওর মাকে ছেলেবেলায় হারিয়েছে। গ্রামে দাদু-দিদার সঙ্গে থাকে এবং পড়াশোনা করে। গুয়াহাটিতে কর্মরত ওর বাবা। তিনি ঘটনার রাতেই গ্রামে ফিরেছিলেন।”
“ও (ছাত্রী) সপ্তাহে তিন দিন টিউশন পড়তে অন্য গ্রামে যায়। সেদিনও পড়তে যাওয়ার জন্য দুপুরে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল। কিন্তু সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন ওকে খুঁজতে শুরু করেন।”
“শেষ পর্যন্ত ওকে যেখানে পাওয়া গিয়েছিল সেটা তার নিজের গ্রামে যাওয়ার প্রধান সড়কের কাছে।”
ছাত্রীর পরিবার চাইছে, পুলিশ বাকি দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করুক, যাতে তাদের শাস্তি দেওয়া যায়।
পরিবারের সদস্যদের মতে, “তা না হলে মানুষের এই আশঙ্কাতেই দিন কাটবে যে তাদের বাড়ির মেয়ের সঙ্গেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে।”
এই প্রতিবেদনে নির্যাতনের শিকার ছাত্রীর পরিবারের সদস্যের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। ভারতীয় আইন অনুযায়ী, ধর্ষণ, যৌন হেনস্থার মতো নির্যাতনের শিকার ও তার পরিবারের পরিচয় প্রকাশ করা যায় না।
ছবির উৎস, Getty Images
ঘটনার পর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর থেকেই ধিং শহর ও আশেপাশে তীব্র উত্তেজনা রয়েছে। স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত অন্য দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশ লাগাতার তল্লাশি চালাচ্ছে।
নগাঁও জেলার পুলিশ সুপার স্বপ্নিল ডেকা বিবিসিকে বলেন, “মোট তিনজনের বিরুদ্ধে ওই নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে। এই মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পকসো আইন এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার অধীনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।”
এদিকে, ঘটনায় অভিযুক্ত তাফাজ্জুল ইসলামের পরিবারের সদস্যরা ওই যুবকের পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন।
সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে মৃত যুবকের মা পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। অভিযুক্তের মা বলেন, “পুলিশ যখন আমার ছেলেকে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়, তখন তার অবস্থা ভালো ছিল, তাহলে পুলিশ হেফাজতে কীভাবে তার মৃত্যু হলো? পুলিশ ওকে রাতে মেরে পুকুরে ফেলে দেয় এবং সকালে আমাকে ফোন করে ওর দেহ শনাক্ত করার জন্য।”
পুলিশ সুপার স্বপ্নিল ডেকা অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করে যেখানে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
পুলিশ সুপার স্বপ্নিল ডেকা গণমাধ্যমকে বলেন, “অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শনিবার ভোর তিনটের দিকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়। এই পরিস্থিতিতে আমাদের দুই কনস্টেবলের হাত থেকে পালানোর চেষ্টা করার সময় পাশের একটা পুকুরে পড়ে যায় ওই অভিযুক্ত।”
“সেই সময় অন্ধকার ছিল। তৎক্ষণাৎ ওকে (অভিযুক্ত যুবককে) খোঁজার করার চেষ্টা চালানো হয় এবং এসডিআরএফকেও এই বিষয়ে জানানো হয়। পুকুরে তল্লাশি করে অভিযুক্তের দেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় আমাদের একজনের হাতেও চোট লেগেছে।”
মৃত যুবকের দেহ দাফন নিয়ে গ্রামবাসীর সিদ্ধান্ত
এদিকে অভিযুক্তের পরিবারকে ‘সামাজিকভাবে বয়কট’ করার ঘোষণা করেছেন তার এলাকার বাসিন্দারা।
মৃত যুবক তাফাজ্জুল ইসলাম যে গ্রামে বাস করতেন সেখানকার বাসিন্দারা বৈঠক করে সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, গ্রামের কবরস্থানে তার দেহ দাফন করতে দেওয়া হবে না।
গ্রামবাসীদের এই সিদ্ধান্তে দুঃখ প্রকাশ করে অভিযুক্ত মৃত যুবকের পরিবারের সদস্যদের একজন বলেন, “তাফাজ্জুলের বিরুদ্ধে এখনো অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি, তাই তার জানাজার জন্য জমি না দেওয়া অন্যায়।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সুপার স্বপ্নিল ডেকা জানান, ওই গ্রামবাসীদের সিদ্ধান্তের বিষয়ে তিনিও শুনেছেন।
পুলিশ সুপার বলেন, “এমন পরিস্থিতিতে পুলিশকে ৭২ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। সাধারণত ময়না তদন্তের পর মৃতদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। কিন্তু কেউ যদি ৭২ ঘণ্টার পরেও মৃতদেহ না নিয়ে যায়, তাহলে সেই অবস্থায় পুলিশকে মৃতের সৎকার করতে হয়।”
ছবির উৎস, Getty Images
মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক
এই ঘটনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বক্তব্য 'সাম্প্রদায়িক' বলে অভিযোগ তুলেছেন কেউ কেউ।
ধর্ষণের ঘটনার পর আসামের মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, “যে অপরাধীরা ধিংয়ের এক হিন্দু নাবালিকা মেয়ের সঙ্গে জঘন্য অপরাধ করার দুঃসাহস দেখিয়েছে, আইন তাদের রেয়াত করবে না। লোকসভা ভোটের পর একটি বিশেষ সম্প্রদায় অত্যন্ত সক্রিয় হয়ে উঠছে। ভাষার ভিত্তিতে হিন্দুদের বিভক্ত করার চেষ্টা থেকে সবার সাবধান হওয়া উচিত।”
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, গত লোকসভা নির্বাচনের পর আসামে এমন ২২টি ঘটনা ঘটেছে। ধিংয়ের ঘটনা ২৩ নম্বর।
তিনি বলেন, “লোকসভা ভোটের পর কিছু বিকৃত মানসিকতা এই ধরনের ঘটনাকে উৎসাহ দিচ্ছে। ঘটনা তদন্তের জন্য পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেলের কাছে পাঠিয়েছি।”
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যে সব এলাকায় আমাদের আদিবাসীরা সংখ্যালঘু হয়ে পড়েছেন, সেখানে মানুষ এই ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।”
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের ভূমিপুত্ররা বাঙালি-মাড়োয়ারি, হিন্দিভাষী মানুষদের নিয়ে চিন্তিত। কিন্তু আসামের ভূমিপুত্ররা বুঝতে পারে না কারা তাদের বন্ধু আর কারা শত্রু।”
মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যকে ঘিরে প্রতিক্রিয়া
মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য স্থানীয় ভাষার একাধিক সংবাদপত্রের প্রথম পাতায় প্রকাশিত হওয়ার পর ওই মন্তব্যের সমালোচনায় সরব হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলো ও বিভিন্ন সংগঠন।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এআইইউডিএফের তিনবারের বিধায়ক আমিনুল ইসলাম বিবিসিকে বলেছেন, “অপরাধীর কোনও ধর্ম বা বর্ণ থাকে না। আমরা সবাই চাই যারা এই জঘন্য অপরাধ করেছে তাদের কঠোর শাস্তি হোক। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর মুসলিমদের শত্রু বলে অভিহিত করেন। এই ধরনের বক্তব্য আসামের সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ পরিবেশের পক্ষে ভাল নয়।”
“যারা এই ঘটনা নিয়ে প্রতিবাদ করছেন, তাদের লক্ষ্য নারীর নিরাপত্তা ও নির্যাতিতার প্রতি ন্যায় বিচার। হিন্দু ভোটের মেরুকরণের জন্য মুখ্যমন্ত্রী এসব বলছেন।”
তার বক্তব্যের স্বপক্ষে তাফাজ্জুল ইসলামের গ্রামের বাসিন্দাদের সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করেছেন আমিনুল ইসলাম।
তার কথায়, “অভিযুক্তর গ্রামবাসীরা তার শেষকৃত্যে যেতে অস্বীকার করেছেন এবং এর মাধ্যমে তারা সমাজের সমস্ত মানুষকে বলতে চেয়েছেন যে ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধে জড়িতরা মৃত্যুর পরেও জমি পাবে না। মুসলিম সমাজ দোষীদের কঠোর শাস্তি চায় যাতে নির্যাতনের শিকাররা ন্যায়বিচার পেতে পারে।”
এদিকে আসামের মুখ্যমন্ত্রী এই ঘটনার বিষয়ে একের পর এক বিবৃতি দিয়েছেন। ধিংয়ের ঘটনার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে কলকাতার আরজি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের প্রসঙ্গও টেনে এনেছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) তিনি লেখেন, “আপনারা আমার গত তিন বছরের রেকর্ড দেখুন। কলকাতায় যে জঘন্য অপরাধ হয়েছে সেটা যদি আসামে ঘটত, তাহলে আমাদের সরকার সঙ্গে সঙ্গে তার ন্যায় বিচার করত।”
"রাজ্যের বিরোধীরা আমার নীতির সমালোচনা করে কিন্তু আমি পরোয়া করি না। কন্যাদের সুরক্ষায় কোনও আপস করা হবে না,” আরও লেখেন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।
ছবির উৎস, Getty Images
End of বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:
নিহতের গ্রামের প্রধান মুকুল কলিতা বলেন, “ধিং এলাকার মানুষ নির্যাতনের শিকার মেয়েটির জন্য ন্যায়বিচার চায়। এই ঘটনার পর এলাকার নারী সংগঠনের সঙ্গে যত নাগরিক সংগঠন প্রতিবাদ করছে, তাদের উদ্দেশ্য একটাই, নারীদের রক্ষা করা এবং এই ঘটনায় নির্যাতনের শিকার মেয়েটির ন্যায় বিচার।”
“আমাদের এলাকায় সক্রিয় একটা 'স্প্রে গ্যাং' গত কয়েক মাস ধরে ডাকাতি ও নারীদের বিরুদ্ধে ঘটা অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিল। গ্রামের মানুষ বহুবার প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত জুলাই মাসে ধিং থানার ইনচার্জের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং তাকে বদলিও করেছে প্রশাসন।”
“কিন্তু তা সত্ত্বেও গত ২২ আগস্ট এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। আমাদের এলাকার কেউ সাম্প্রদায়িক পরিবেশ নষ্ট করতে চায় না। আমরা শুধু নারীদের নিরাপত্তা চাই”, বলেন মি কলিতা।
পুলিশ সুপার স্বপ্নিল ডেকা জানিয়েছেন, এই ঘটনার পর ধিং শহরের তিন কিলোমিটার ভিতরের এলাকায় চরম উত্তেজনা রয়েছে।
তাই স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে মোতায়েন করা পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। নির্যাতনের শিকার ওই স্কুল পড়ুয়া জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এসপির তথ্য অনুযায়ী, ছাত্রী আগের চেয়ে এখন ভাল আছেন।
প্রধান খবর
নির্বাচিত খবর
পাঠকপ্রিয় খবর
ছবির কপিরাইট