আন্ত:মহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করলো উত্তর কোরিয়া

ছবির উৎস, Reuters

ছবির ক্যাপশান, টিভিতে দেখানো হচ্ছে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের খবর

জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন উত্তর কোরিয়া একটি আন্ত:মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে।

বুধবার জাপানের জলসীমার কাছে পড়ার আগে এই ক্ষেপণাস্ত্রটি এক ঘণ্টারও বেশী সময় আকাশে উড়েছে।

পিয়ংইয়ং এর আগে তার ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা বিমান গিয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ করে পাল্টা ব্যবস্থার হুমকি দিয়েছিলো। আর তারপরই এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের ঘটনা ঘটলো।

এর আগে এ সপ্তাহের শুরুতে এ ধরণের গুপ্তচর বিমান ভূপাতিত করার হুমকি দিয়েছিলো দেশটি।

তবে ওয়াশিংটন এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে তারা আন্তর্জাতিক আইন মেনেই সামরিক টহল পরিচালনা করছে।

মূলত উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র কার্যক্রমের কারণে এ বছর কোরীয় উপত্যকায় নিরাপত্তা সংক্রান্ত উত্তেজনা বেড়েছে।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, গত এপ্রিলে উত্তর কোরিয়া প্রথমবারের মতো দীর্ঘ পাল্লার সলিড-ফুয়েল মিসাইলের পরীক্ষা চালিয়েছিলো

যুক্তরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ কোরিয়া ওই অঞ্চলে যৌথ সামরিক মহড়া বাড়িয়েছে। জবাবে পিয়ংইয়ং এ পর্যন্ত অনেকগুলো ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। একই সাথে দেশটি অস্ত্র সক্ষমতা বৃদ্ধির অঙ্গীকার করেছে।

উত্তর কোরিয়া এ বছরেই অনেকগুলো ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে। এর মধ্যে একটি স্পাই স্যাটেলাইট ছিলো। তবে সেটি ব্যর্থ হয়েছে।

এপ্রিলে দেশটি আন্তঃ মহাদেশীয় নতুন একটি সলিড-ফুয়েল মিসাইল নিক্ষেপের পরীক্ষা চালানোর দাবি করেছিলো, যা লিকুইড-ফুয়েল বা তরল জ্বালানি দিয়ে চালিত মিসাইলের চেয়েও দ্রুত নিক্ষেপ করা যায়।

বুধবার সকালে জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক কর্মকর্তারা প্রায় সাথে সাথেই পিয়ংইয়ং এর ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের তথ্য জানিয়েছে।

এটি যখন উড়ছিলো তখনই এটিকে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছিলো।

জাপান সময় সকাল সোয়া এগারটার সাগরের পতিত হওয়ার আগে পিয়ংইয়ং থেকে পূর্ব দিকে এক ঘণ্টারও বেশি সময় এটি উড়েছে বলে জাপানের কোস্ট গার্ড জানিয়েছে।

এর আগে গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়ার প্রতিক্রিয়ায় সবশেষ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছিলো উত্তর কোরিয়া। যদিও ফেব্রুয়ারিতেও আন্ত:মহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছিলো দেশটি।

এ ধরণের ক্ষেপণাস্ত্র এর দূরপাল্লার সক্ষমতার জন্যই উদ্বেগজনক কারণ এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে মূল ভূখণ্ডও রয়েছে।