২০ ঘণ্টা জেরার পর রেশন দুর্নীতির অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী গ্রেফতার

ছবির উৎস, ANI

ছবির ক্যাপশান, কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে পশ্চিমবঙ্গের গ্রেপ্তার হওয়া বন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক (মাঝে, চশমা পরিহিত)
    • Author, রূপসা সেনগুপ্ত
    • Role, বিবিসি নিউজ বাংলা, কলকাতা

পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে শুক্রবার ভোররাতে গ্রেফতার করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের তদন্ত সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। গ্রেফতারের পর আদালতে হাজির করানো হলে আগামী ৬ই নভেম্বর পর্যন্ত ইডি'র হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

মিঃ মল্লিক যখন রাজ্যের খাদ্য মন্ত্রী ছিলেন, তখন রেশন ব্যবস্থায় বড়সড় দুর্নীতিতে জড়িত ছিলেন তিনি, এমনটাই অভিযোগ।

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও মমতা ব্যানার্জীর ঘনিষ্ঠদের মধ্যে অন্যতম মি. মল্লিক বর্তমানে বন মন্ত্রী।

জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে গ্রেপ্তার করার আগে তার ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত এক ব্যবসায়ীকেও ওই একই দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ছবির উৎস, Jyoti priya Mallick / X

ছবির ক্যাপশান, গ্রেপ্তার করার আগে প্রাক্তণ খাদ্য মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের (সামনে, সাদা পাঞ্জাবী পরিহিত) বাড়িসহ একাধিক জায়গায় প্রায় ২০ ঘন্টা ধরে তল্লাশি চলেছে - ফাইল ছবি

প্রায় ২০ ঘণ্টা জেরা

বৃহস্পতিবার প্রথমে তাঁর সল্টলেকের বাসভবন, অন্যান্য বাসস্থান, তাঁর ঘনিষ্ঠদের বাড়ি সহ একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালানো হয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি।

টানা প্রায় ২০ ঘণ্টা জেরার পর শুক্রবার ভোরবেলা তাঁকে গ্রেফতার করে ইডি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেন তৃণমূল নেতা মি. মল্লিক। তিনি এও অভিযোগ করেন, যে তিনি ‘ষড়যন্ত্রের শিকার’।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইডি এবং কেন্দ্র সরকারের তীব্র সমালোচনা করে সাংবাদিক বৈঠকে তাঁর ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বর্তমানে তিনি রাজ্যের বন মন্ত্রী, তবে ২০১১ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তিনিই ছিলেন খাদ্য মন্ত্রী। এর আগে বর্তমান খাদ্য মন্ত্রী রথীন ঘোষের বাড়িতেও দীর্ঘ সময় তল্লাশি চালিয়েছেন ইডি কর্মকর্তারা।

ছবির উৎস, Jyoti Priya Mallick / X

ছবির ক্যাপশান, মমতা ব্যানার্জীর একনিষ্ঠ সহকর্মী বলে পরিচিত জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক (মমতা ব্যানার্জীর ডান দিকে) - ফাইল ছবি

মমতার ঘনিষ্ঠবৃত্তের সদস্য

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

ইডির হাতে ধৃত জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া উত্তর ২৪ পরগণা জেলার প্রবল প্রতাপশালী তৃণমূল কংগ্রেস নেতা।

দলটির জন্মলগ্ন থেকেই মি. মল্লিক নেত্রী মমতা ব্যানার্জীর সঙ্গে ছিলেন। কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে এসে নতুন দল তৃণমূল কংগ্রেস গড়ার যে আবেদন ভারতের নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছিল, সেই চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের অন্যতম ছিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক।

তার ডাকনাম বালু, আর সেই নামেই তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী বা দলের সদস্যদের কাছে বেশি পরিচিত।

তৃণমূল কংগ্রেস ২০১১ সালে প্রথমবার ভোটে জিতে ক্ষমতায় আসার পরে খাদ্য মন্ত্রী হয়েছিলেন মি. মল্লিক। দুই দফায় খাদ্য মন্ত্রী থাকার পরে সর্বশেষ ভোটে, ২০২১ সালে তিনি দায়িত্ব পান বন দপ্তরের।

ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই মমতা ব্যানার্জীকে ঘিরে যে ঘনিষ্ঠতম রাজনৈতিক সহকর্মীরা ছিলেন, তাদেরই অন্যতম জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, ওরফে বালু। তাকে মিজ ব্যানার্জীর একনিষ্ঠ রাজনৈতিক যোদ্ধাও বলেন কেউ কেউ।

মন্ত্রী হওয়ার পরে বেশ কয়েকবার বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন মি. মল্লিক। যেমন, ২০১২ সালে তিনি বলেছিলেন যে সিপিএমের কোনও সদস্য পরিবারের সঙ্গে তাদের দলের কেউ যাতে কোনও রকম সম্পর্ক না রাখে, এমনটি বৈবাহিক সম্পর্ক থেকেও বেরিয়ে আসেন।

পশ্চিমবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ ভোট ব্যাঙ্ক মতুয়া ধর্মাবলম্বীদের তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে টেনে আনার কাজটা প্রায় একা হাতে সামলিয়েছিলেন মি. মল্লিক।

এর আগে, বামফ্রন্ট জমানায় ফরোয়ার্ড ব্লকের নেতা হরিপদ বিশ্বাস মতুয়াদের ভোট বামফ্রন্টের দিকে নিয়ে আসার মূল সাঁকো ছিলেন, কিন্তু মি. মল্লিক সেই ভোট ব্যাঙ্কে ভাঙ্গন ধরিয়ে মতুয়াদের সমর্থন তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে নিয়ে আসেন।

আবার কলকাতা থেকে যশোরের সংযোগকারী ঐতিহাসিক রাস্তা যশোর রোড সম্প্রসারণের জন্য কয়েকশো গাছ কেটে ফেলে উড়ালপুল বানানোর বিতর্কিত কাজের মূল উদ্যোক্তাও ছিলেন তিনি।

ছবির উৎস, Jyoti Priya Mallick / X

ছবির ক্যাপশান, মতুয়া সম্প্রদায়ের মূল কেন্দ্র ঠাকুরনগরে তাদের এক অনুষ্ঠানে মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক - ফাইল ছবি

কী অভিযোগ?

সম্প্রতি রেশন দুর্নীতির তদন্ত করতে গিয়ে ইডি বাকিবুর রহমান নামে এক ব্যবসায়ীর হদিশ পায়, যাঁকে পরে গ্রেফতারও করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক ব্যবসায়ীর সঙ্গে বেআইনি আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তোলে ইডি।

সে সময়ে মি. রহমান ও তাঁর আত্মীয়ের বাড়িতে টানা তল্লাশি চালিয়ে কোটি কোটি টাকার বেআইনি আর্থিক লেনদেনের নথি, বিপুল সম্পত্তির হদিশ পাওয়া গেছে বলে দাবি ইডি কর্মকর্তাদের। অভিযোগ, এর পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে বেআইনি আর্থিক লেনদেনের নথিও বাজেয়াপ্ত করা হয়।

মি. রহমানের সঙ্গে মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে বলেও ইডি-র তরফে অভিযোগ করা হয়। এমনকি এও অভিযোগ, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক মন্ত্রী থাকাকালীনই বাকিবুর রহমানের ‘উত্থান’ ঘটে।

বাকিবুর রহমানের বাড়ি থেকে বাজেয়াপ্ত নথি যাচাই করার জন্যই বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, তাঁর আপ্ত সহায়ক অমিত দে-র বাড়ি সহ একাধিক জায়গায় ইডি হানা দেয়, এমনটাই জানাচ্ছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, একটি রেশন দোকানের সামনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী - প্রতিকী ফাইল চিত্র

‘দুর্নীতি’ কীভাবে করা হতো?

কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে আসা স্বল্পমূল্যে বিক্রির জন্য খাদ্যদ্রব্য বিভিন্ন রেশন ডিলার ও ডিস্ট্রিবিউটরদের সঙ্গে ‘যোগ সাজস’ করে বাকিবুর রহমান খোলা বাজারে বিক্রি করতেন বলে অভিযোগ।

বছর তিনেক আগে নদীয়ার কোতোয়ালি থানায়, বাকিবুর এবং অন্যান্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা দায়ের করেছিল পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ।

সে সময় তল্লাশি চালিয়ে একাধিক গুদাম থেকে আটা যা রেশনের বদলে খোলা বাজারে বিক্রি করা হত, তার হদিশও পায় রাজ্য পুলিশ।

রেশন দুর্নীতির অভিযোগে বেশ কয়েকজন রেশন ডিলার ও ডিস্ট্রিবিউটরকে গ্রেফতার করা হয়। পরে অবশ্য তারা জামিনে মুক্তি পান।

কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ‘অভিযোগ’ ছিল, রাজ্য পুলিশ রেশন দুর্নীতির তদন্ত শুরু করলেও ক্রমশ তা গতি হারায়।

Skip YouTube post
Google YouTube কনটেন্টের জন্য কি অনুমতি দেবেন?

এই নিবন্ধে Google YouTubeএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত Google YouTube কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।

সতর্কবাণী: বিবিসির নয় এমন ওয়েবসাইটের কনটেন্টের জন্য বিবিসি দায়ী না YouTube কনটেন্টে বিজ্ঞাপন থাকতে পারে

End of YouTube post

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, নিম্ন আয়ের মানুষকে সস্তায় দেওয়ার জন্য যে খাদ্যদ্রব্য কেন্দ্র পাঠায়, তা খোলা বাজারে বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা কামানো হয়েছে দুর্নীতির মাধ্যমে, এমনটাই অভিযোগ

মন্ত্রী কী বলছেন?

গ্রেপ্তার হওয়ার পরে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক দাবী করেছেন তিনি ‘চক্রান্তের’ শিকার।

বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টি এবং বিরোধী নেতাদের ‘দায়ী’ করেন তিনি। ইডি কর্মকর্তাদের সঙ্গে দক্ষিণ ২৪ পরগণার জোকায় কেন্দ্রীয় সরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য শুক্রবার সকালে তাকে যখন নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, সেই সময়ে সংবাদ মাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা হয়েছে। বিজেপি এবং শুভেন্দু অধিকারী চক্রান্তে জড়িত।’’

তার দল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্য কোনও নেতা নেত্রী মি. মল্লিকের গ্রেপ্তারি নিয়ে মন্তব্য না করলেও মন্ত্রী শশী পাঁজা জানিয়েছেন, “মহারাষ্ট্র, গোয়ার মতো যেসব রাজ্যে অ-বিজেপি সরকার ছিল, সেগুলো উল্টে দেওয়া হয় কিসের বিনিময়ে? হয় সিবিআই, না হয় ইডি অথবা অর্থ দিয়ে। এরা দুর্নীতির কথা আজ বলছে, পরিবারতন্ত্রের কথা বলছে যাদের পরিবারের সকলে নির্বাচিত।”

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, অ-বিজেপি দলের নেতা-মন্ত্রীদের টার্গেট করে ইডি, সিবিআইয়ের মতো কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে ব্যবহার করছে বিজেপি সরকার, এমনই অভিযোগ বিরোধী দলগুলির

মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া

বৃহস্পতিবার যখন তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী ও মন্ত্রীসভার সদস্য বালু (জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে এই ডাকনামেই ডাকেন মমতা ব্যানার্জী)-র বাড়িতে তল্লাশি চলছে, তখনই মুখ্যমন্ত্রী এক সংবাদ সম্মেলনে ওই তল্লাশি সহ একাধিক বিষয়ে বিজেপি-র বিরুদ্ধে উষ্মা প্রকাশ করেন তিনি।

মিজ ব্যানার্জী বলেছিলেন, ‘‘আমি শুনেছি, বাড়ি বাড়ি গিয়ে ইডির গোয়েন্দারা তল্লাশির নামে চিনির কৌটো উল্টে দেয়। ঘিয়ের শিশি উল্টে দেয়। বাড়ির মেয়েদের কত রকম পোশাক-আশাক থাকে, তাদের ক’টা শাড়ি আছে, তারও তল্লাশি নেয়।"

"এই সব আমরা সহ্য করব না। বালু সুগারের রোগী। ওর যদি কিছু হয়, তা হলে আমি বিজেপি এবং ইডির বিরুদ্ধে এফআইআর করব,’’ বলেন মমতা ব্যানার্জী।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, পশ্চিমবঙ্গের সর্বস্তরে দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ বিজেপির - ফাইল চিত্র

‘সর্বস্তরে দুর্নীতি হয়েছে’

বিগত কয়েক বছরে তৃণমূলের একাধিক নেতা, মন্ত্রী এবং দলের ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে শিক্ষক নিয়োগ, পুর-দুর্নীতির মতো একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছে।

জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের সর্বস্তরে দুর্নীতি হয়েছে। গ্রেফতারের বিষয়ে এদিন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, “পশ্চিমবঙ্গে সর্বস্তরে দুর্নীতি হয়েছে।

কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্পের টাকায় গরমিল করার চেষ্টা হয়েছে। সরকারি যত প্রকল্পের সুবিধা পেতে টাকা দিতে হয়।

“প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা থেকে শুরু করে শৌচালয় তৈরি –এর সমস্ত সুবিধা পেতে সাধারণ মানুষকে টাকা দিতে হয়েছে। রেশন বণ্টন থেকে শুরু করে এ রাজ্যে যত চাকরি হয়েছে, তাতে দুর্নীতি হয়েছে। সব জায়গায় টাকা নেওয়া হয়েছে,” মন্তব্য মি. ঘোষের।

মিঃ ঘোষ এও জানিয়েছেন, শুধু তল্লাশি বা গ্রেফতার করলে হবে না। দোষী দের শাস্তি দিতে হবে। তিনি বলেছেন, “ সাজা না দেওয়া পর্যন্ত দুর্নীতি বন্ধ হবে না।”

অন্যদিকে, সিপিএম নেতরাও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন।

“একের পর এক এই দুর্নীতির কারণে একাধিক পশ্চিমবঙ্গের মাথা হেঁট হয়ে যাচ্ছে। জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক গ্রেফতার হয়েছেন, এতে অস্বাভাবিক কিছু নেই। শিক্ষা দুর্নীতিতে অভিযুক্ত শিক্ষামন্ত্রী, রেশন দুর্নীতিতে অভিযুক্ত রেশন মন্ত্রী- এটাই তো চলে আসছে।

“মুখ্যমন্ত্রী একাধিকবার সরকারি বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, ১০ কোটি মানুষকে রেশন দিচ্ছি। আমি বিধানসভায় দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করেছিলাম, পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যা সাড়ে নয় কোটি। অন্তত বিশ শতাংশ মানুষ রেশন নেন না। তাহলে দশ কোটি অঙ্কটা কোথা থেকে আসছে?" প্রশ্ন তোলেন সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী।

"উনি উত্তর দেননি, ওঁর মুখ্যসচিব উত্তর দেননি, খাদ্য মন্ত্রী উত্তর দেননি। এত দুর্নীতি হলে তাঁর দায় খাদ্যমন্ত্রীকে নিতে হবেই,” বিবিসি বাংলাকে বলেন মি. চক্রবর্তী।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, শিক্ষা ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগে একবছরেরও বেশি জেলে আছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তণ শিক্ষা মন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জী (বাঁয়ে সবুজ পাঞ্জাবী পরিহিত) - ফাইল চিত্র

তৃণমূলের একাধিক নেতা-মন্ত্রী জেলে

গত এক বছরে থেকে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তকারী সংস্থার হাতে গ্রেফতার হয়েছেন একাধিক নেতা-মন্ত্রী ও তাঁদের ঘনিষ্ঠরা।

শিক্ষায় নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে ২০২২ এর জুলাই মাসে গ্রেফতার করা হয় প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে। তার ‘ঘনিষ্ঠ’ বলে পরিচিত অভিনেত্রী অর্পিতা মুখার্জীর টালিগঞ্জ এবং বেলঘরিয়ার ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে নগদ প্রায় ৫০ কোটি টাকা ও সোনা বাজেয়াপ্ত করা হয়।

এরপর মুখার্জীও গ্রেফতার হন। তৃণমূলের বিধায়ক মানিক ভট্টাচার্যকে নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে ২০২২-এর অক্টোবর মাসে গ্রেফতার করা হয়। ওই তদন্তে নেমে কুন্তল ঘোষ, শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় ও অয়ন শীলকে গ্রেফতার করা হয়।

এদের মধ্যে মি. ঘোষ এবং ব্যানার্জী তৃণমূলের যুব নেতা ছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাঁদের দল বহিষ্কার করেছে।

গত বছরের অগাস্ট মাসে তৃণমূলের বীরভূম জেলার সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলকে গ্রেফতার করা হয়। এই বছরের এপ্রিল মাসে অনুব্রত মণ্ডলের কন্যাও জেলে যান।